Sunday, January 9, 2011

বায়োইনফরমেটিকস যুগের দিকে যাত্রা শুরু করেছি

বায়োইনফরমেটিকস যুগের দিকে যাত্রা শুরু করেছি

মাহবুব জামান | তারিখ: ১৯-০৬-২০১০

ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেটা সফট

আমাদের এই গবেষণার অর্জন শুধু পাটের জিন-নকশা উন্মোচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। দেশের তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় অর্জন। এই প্রথম দেশের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও প্রাণরসায়নবিদেরা একত্র হয়ে কাজ করে একটি বড় সাফল্য অর্জন করলেন। প্রাণরসায়নবিদেরা পাটগাছ বিশ্লেষণ করে যে কয়েক কোটি তথ্য বের করেছেন, তা বিশ্লেষণ করার কাজটি করে দিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তিবিদেরা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া বাদে একমাত্র বাংলাদেশই এই সাফল্য পেয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে এই অর্জন বড় ধরনের উদাহরণ হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্ম এ থেকে উৎসাহ পাবে।
গত দশকটিকে বলা হয়েছে ডিজিটাল যুগ। আগামী দিনকে বলা হচ্ছে বায়োইনফরমেটিকসের যুগ। জ্ঞানের এই নতুন ক্ষেত্রের জন্য জীববিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, গণিত ও পরিসংখ্যানবিদদের জ্ঞানের একটি সমন্বিত রূপ। পাটের জিন-নকশা উন্মোচন আমাদের সেই পথের দিকে যাত্রার সূচনা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র মালয়েশিয়া বায়োইনফরমেটিকসে এগিয়ে গেছে। আমাদেরও সে সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য সরকারকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
পাট নিয়ে গবেষণার জন্য মালয়েশিয়ার বেশ কিছু গবেষণাগারের উচ্চপ্রযুক্তির সহায়তা আমাদের নিতে হয়েছে। আমরা নিজেরা যদি এই প্রযুক্তিগুলো দেশে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য উদ্ভিদগুলো নিয়ে গবেষণা করার সময় তা কাজে লাগবে।

Source:

Prothom Alo

Wednesday, January 5, 2011

পাটের জিনোম সিকোয়েন্স: জীবন ধবংস করে ’জীবন রহস্য’ উন্মোচনের রাজনীতি

পাটের জিনোম সিকোয়েন্স: জীবন ধবংস করে ’জীবন রহস্য’ উন্মোচনের রাজনীতি

২২ শে জুন, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৬

জিনোম সিকোয়েন্স বা জিন নকশা উন্মোচন করা মানে কিন্তু কোন জিনের কি কাজ তা বুঝে ফেলা নয়, নকশায় থাকা জিনগুলোর কোনটির কি কাজ অর্থাৎ কোনগুলোর কারণে পাট লম্বা/খাটো হচ্ছে, কম/বেশী পানিতে জন্মাচ্ছে কিংবা সূক্ষ/মোটা আশ তৈরী হচ্ছে সেটি জানতে গেলে আরো পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু গত ১৬ জুন সরকারী ভাবে পাটের জেনেটিক সিকোয়েন্স আবিস্কারের ঘোষণা দেয়ার সময় সেটাকে পাটের ’জীবন রহস্য উন্মোচণ’ বলে দাবী করা হয় এবং আশাবাদ ব্যাক্ত করা হয় এর মাধ্যমে ’বাংলাদেশ পাটের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে, সোনালি আঁশ আবার তার হারানো দিন ফিরে পাবে।’ জীবন রহস্য বা জিন নকশা যাই বলি না কেন জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন নিশ্চিত ভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং যদি মুনাফাবাজী না করে, জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর চটকদার কিন্তু বিপদজনক ফাঁদে পা না দিয়ে এই জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে আরো গবেষণা করা হয়, যদি জিনোম সিকোয়েন্স এর সহায়তায় মার্কার অ্যসিস্টেড সিলেক্টিভ ব্রিডিং(এমএএস) বা ’জেনেটিক মার্কার সহায়তায় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজনন’ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, তাহলে এর মাধ্যমে পাটের গুণগত মান আরও উন্নত করা অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু এই আশাবাদের সাথে বাংলাদেশের পাটের হারিয়ে যাওয়া গৌরব পুনরুদ্ধারের কি সম্পর্ক? বাংলাদেশের পাটের গৌরব কি উন্নত জাতের পাটের অভাবে হারিয়ে গেছে যে এখন জিন নকশা আবিস্কারের সুবাদে ভালো জাতের পাটের উদ্ভাবন হলেই সেই ’হারানো’ গৌরব পুনরুদ্ধার হয়ে যাবে? তাহলে জিনোম সিকোয়েন্স আবিস্কার না করেই ভারত কি করে পাটের সুদিন এনেছে এবং ধরে রেখেছে?

বাংলাদেশের পাটের দুরবস্থা বোঝার জন্য পাটের জিনোম সিকোয়েন্স নয় বরং শাসক শ্রেণীর জিনোম সিকোয়েন্স, সেই জিন নকশায় বিশ্ব ব্যাংক- আইএমএফ এর জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এদেশের পাট খাতের উপর তার ফলাফলটা লক্ষ করা দরকার। শাসক শ্রেণীর জিন নকশায় গুটিকয়েকের স্বার্থ রক্ষা এবং সাম্রাজ্যবাদের অধীনতার কথাই লেখা আছে ফলে তাদের কাছে লাখ লাখ পাট চাষী কিংবা পাট শ্রমিকের জীবিকা কিংবা সোনালী আশের গৌরবের কোন আবেদন কোন দিনই ছিল না ফলে তারা আদমজীসহ অন্যান্য পাটকল বন্ধকরে দিয়েছে আর তার বাস্তবতা তৈরীর জন্য পাট চাষীর কাছ থেকে সময় মত ন্যায্য দামে পাট না কিনে একদিকে পাট চাষীকে পাট চাষ বিমুখ করেছে অন্যদিকে পরবর্তীতে ফড়িয়াদের কাছ থেকে সেই একই পাট বেশী দামে কিনে, যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন না করে, পাট পণ্যের দেশজ ব্যাবহারের বহুমূখীকরণ না করে এবং সর্বোপরি দুর্নীতি ও লুটপাট চালিয়ে সরকারী পাটকলগুলোকে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। আর ভারতে পাট শিল্পের বিকাশের কালে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর পরমার্শে যখন একে একে পাটকলগুলোকে বন্ধ করা হচ্ছে, বেসরকারী করণ করা হচ্ছে এবং সোনালী করমর্দন দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করে দেয়া হচ্ছে তখনও কিন্তু আজকের মতই সোনালী আঁশের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনার কথাই বলা হয়েছিল!

এখন জিন নকশার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উন্নত জাতের, উচ্চ ফলনশীল, লবণাক্ততা সহ্যকারী, কমপানিতে জাগ দেয়ার উপযোগী পাট উৎপাদনের খোয়াব দেখানো হচ্ছে। পাটের জাত উন্নয়ণের চেষ্টা করা হবে ভালো কথা কিন্তু ইতোমধ্যেই যে দেশে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠগুণগত মানের পাট ফলন হয়, সেদেশের পাট চাষী কেন পাটের ন্যায্য দাম পায় না, কেন বছর বছর পাট আবাদী জমির পরিমাণ কমতে থাকে সে প্রশ্নের উত্তর না পেলে তো নতুন জাতের পাট আবিস্কার করেও কোন ফায়দা হবে না! জিনোম সিকোয়েন্স ছাড়াই বাংলাদেশের চেয়ে নিম্ন মানের পাট অপেক্ষাকৃত অনুপযোগী জমিতে ফলিয়েও তো ভারত বর্তমানে সারা দুনিয়ার মধ্যে প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। যে শাসক শ্রেণী ইতোমধ্যে বিদ্যমান পাটের গুণাগুণের সর্বোচ্চ ব্যাবহার করতে জানেনা সেই একই শাসক শ্রেণী যখন পাটের জাত আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে তখন সেটা সন্দেহের ব্যাপারই বটে। জিনোম সিকোয়েন্স বিষয়ক সরকারী সংবাদ সন্মেলনে সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছে: ”লিগনিন নামক জৈব রাসায়নিক উপাদান বেশি থাকায় পাটের আঁশ মোটা হয়। ফলে তা দিয়ে শুধু দড়ি ও চট তৈরী করা যায়। লিগনিনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারলে তা দিয়ে সূক্ষ সূতা তৈরী করা যাবে।” এখন পাট দিয়ে সূতা তৈরীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে অথচ বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা না থাকা ও লোকসানের অযুহাতে আদমজী পাটকল বন্ধকরে দেয়ার বছরে (২০০২ সালে) ঘোষিত বাংলাদেশের পাটনীতিতে বলা হয়েছিল: ”এখন পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ণ কর্মকান্ডের সহায়তায় যেসব পণ্য উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে- ক) নিম্নমানের পাট ও কাঁচাপাট ব্যাবহার করে কাগজ তৈরীর পাল্প খ) পাটের কম্বল গ) কাপড় তৈরীর লক্ষে তুলা ও পাটের সংমিশ্রণে মিহি সুতা ঘ) ঘরের দরজা-জানালার ফ্রেম তৈরীর লক্ষ্যে কাঠের বিকল্প সামগ্রী ঙ) ঘরের ছাদে ব্যাবহারের জন্য সি আই সিটি এর বিকল্প হিসেবে পাট মিশ্রিত করোগেটেড শিট চ) ঘরের অন্যান্য দ্রব্যসহ আসবাবপত্র তৈরীর জন্য জুটো-প্লাস্টিক সামগ্রী ছ) মোটরগাড়ির বডি ও অভ্যন্তরের বিভিন্ন অংশ জ) নদী ও রাস্তার ভাঙন রোধ কল্পে জুট জিও-টেক্সটাইল ঝ) বিভিন্ন প্রকার ডেকোরেটিভ সামগ্রী ট) পাটের তৈরী বিভিন্ন প্রকারের কাপড়।” তাহলে ২০০২ সালে থেকেই পাট পণ্যের যে বহুমুখী ব্যাবহারের কথা শাসক শ্রেণী জানে, পাট শিল্পে তার বাস্তবায়ন না করে, এখন জিনোম সিকোয়েন্স ব্যাবহার করে উন্নত জাতের ও বহুমুখী ব্যাবহার উপযোগী পাট নতুন করে উদ্ভাবনের ফ্যান্টাসী করার মাজেজা কি!

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ গোটা শিক্ষাখাতে ক্রমশ সরকারী ব্যায় সংকোচনের প্রেক্ষপটে এবং অত্যন্ত দুর্বল গবেষণাগারের সীমিত সুযোগ সুবিধা ব্যাবহার করে যে ৭২ জন বিজ্ঞানী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ পাটের জিনোম সিকোন্সিং এর এই কাজটি করেছেন নি:সেন্দেহে তারা অভিনন্দনের দাবীদার। তাদের এই আবিস্কার দেশের সামগ্রীক উন্নয়ণের প্রয়োজনে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তাটিকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। কিন্তু এ আনন্দ উদযাপনের বেলায় ভুলে গেলে চলবে না, বিজ্ঞানের যে কোন আবিস্কারের মতোই এই পাটের জিন-নকশা উন্মোচন জনগণের কতটুকু কাজে লাগবে তা নির্ভর করবে এই জিন-নকশা চূড়ান্ত বিচারে কার হাতে থাকবে, কি উদ্দেশ্যে ব্যাবহ্রত হবে তার উপর। ২০০২ সালে ধানের জিন নকশা উন্মোচনের খবর সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্ব খাদ্য সংস্থা এক প্রতিক্রিয়ায় উল্ল্যেখ করে:

”জিন নকশার মাধ্যমে ধানের সকল জিন এবং তাদের কার্যাবলী নির্ধারণ করা সম্ভবপর হবে। ’কার্যকরী জিনোমিকস’ এর কাজই হলো এই জিন চিহ্রিত করা এবং তার কার্যনিধারণ করা। বিভিন্ন বৈচিত্রের ধানের জেনিটিক মার্কার আবিস্কার ও সিলেক্টিভ ব্রিডিং এ তা ব্যাবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন কাঙ্খিত বৈশিষ্টের উন্মেষ ঘটানো যায় বা অনাকাঙ্খিত বৈশিষ্টকে সুপ্ত করে দেয়া যায়। আবার বিভিন্ন ধারার জন্য প্রয়োজনীয় জিন চিহ্রিত করে সেগুলোর মাধ্যমে(জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে) ট্রান্সজেনিক জাতও তৈরী করা যায়।”

ধানের জিন নকশা কাজে লাগিয়ে সিলিক্টিভ ব্রিডিং কিংবা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং - উভয় ধরনের গবেষণাই চলছে। বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলো দ্রুত মুনাফার লোভে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং কে প্রাধান্য দিয়ে বিতর্কিত হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনেক দেশেই জিন-নকশার সাহায্যে মার্কার অ্যাসিস্টেড সিলেক্টিভ ব্রিডিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের জাত উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। যেমন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী অর্থায়নে সেদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল গমের জিন-নকশার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গমের জাত উন্নয়নের জন্য ’মার্কার অ্যাসিস্টেড সিলেকশন ইন হুইট’ নামের একটি গবেষণা চলছে।

আমরা মনে করি বর্তমানে বাংলাদেশে যে মানের পাট উৎপাদিত হয় শিল্প ক্ষেত্রে তার সঠিক ব্যাবহার করাটাই পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনার জন্য যথেস্ট। পাটের সোনলি দিন ফিরে আসা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স এর উপর নয় বরং শাসক শ্রেণীর জিনোম সিকোয়েন্স পরিবর্তনের উপর নির্ভর করছে। তারপরও পাটের ক্রমাগত মানোয়ন্নয়ের কাজে পাটের জিন-নকশার কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আমরা মনে করি যেহেতু জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে বাহির থেকে কৃত্রিম ভাবে জিন প্রবেশ করিয়ে উৎপাদিত জাতের ট্রান্সজেনিক লাইন অর্থাৎ জেনেটিক বৈশিষ্ট স্থির রাখা যায় না, যেহেুতু জেনেটিক দূষণের ঝুকি থেকে যায়, প্রজাতির বৈচিত্র হুমকীর মুখে পড়ে এবং বীজের অধিকার থেকে কৃষক বঞ্চিত হয়, সেহেতু যুগ যুগ ধরে ব্যাবহ্রত হয়ে আসা সিলেক্টিভ ব্রিডিং পদ্ধতিটিতে যদি পাটের জিনোম সিকোয়েন্সের সাহায্য নেয়া হয় এবং তার ফলে উৎপাদিত উন্নত বীজের মালিকানা কৃষকের হাতে থাকে এবং উৎপাদিত পাটের সর্বোচ্চ বহুমুখী ব্যাবহারের জন্য ব্যাপক শিল্পায়ন করা হয় তাহলে সেটাই প্রকৃত অর্থে জনকল্যাণ বয়ে আনবে । কিন্তু যদি এই পাটের জিন-নকশা রাষ্ট্রীয় বা বেসরকারী ভাবে কিংবা বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য তুলে দেয়া হয়, যদি এই জিন নকশা কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত উন্নত জাতের বীজ কৃষককে আরও বেশী বাজারের উপর নির্ভরশীল করে ফেলে, তাহলে তাতে সাময়িক ভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও এবং জিন-নকশার কংকাল ও তার মালিক শ্রেণীর গায়ে বাড়তি মাংস লাগলেও চূড়ান্ত বিচারে তা কৃষক-শ্রমিকের কংকালের সংখ্যাই বাড়িয়ে তুলবে, পাটের সোনালি দিন পাট চাষী ও পাট শ্রমিকের না হয়ে গুটিকয় শাসক-শোষকের সোনালি দিনে পরিণত হবে।
By- দিনমজুর
www.somewhereinblog.net

Tuesday, December 21, 2010

পাটশিল্প ঘুরিয়ে দিতে পারে অর্থনীতির চাকা

পাটশিল্প ঘুরিয়ে দিতে পারে অর্থনীতির চাকা
- আনু মাহমুদ

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ চারটি পাটকল আবার চালু করার প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর সঙ্গে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগ রয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে বলা হয়েছে, মিলগুলো চালু করতে ব্যয় হবে ১৭৬ কোটি টাকা। তারপর এগুলো নিয়মিতভাবে চালু রাখার জন্যও মাসে মাসে প্রয়োজন হবে বিপুল অর্থ।

আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বন্ধ পাটকলগুলো আবার চালু করা বাস্তবসম্মত। দেশের ভেতরেও পস্নাস্টিকসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানজাত দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবহার কমিয়ে পাটজাত দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ভাবনাও সময়োপযোগী। পৃথিবীর অনেক দেশই এ ধরনের পরিবেশবান্ধব দ্রব্যসামগ্রী ব্যবহারের পথে ফিরে যাচ্ছে। সুতরাং দেশের ভেতর ও বাইরে পাট ও পাটজাত দ্রব্যসামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটা পাটশিল্পের বাণিজ্যিক সাফল্যের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা নির্দেশ করে। পাটের সমৃদ্ধ সোনালি অতীতের কারণও ছিল তা-ই। আশাব্যঞ্জক চিত্র। পাটকলগুলোর তালাবদ্ধ দরজা খুলে যাচ্ছে। আলোর রশ্মি আদমজী চত্বরেও পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল বন্ধ কারখানাগুলো চালু করে তারা উৎপাদনের চাকা ঘোরাবে। সরকার ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে পাট খাত অন্যতম। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের বাড়তি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রয়ত্ত পাঁচ পাটকল চালু করতে যাচ্ছে সরকার।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পেছনে সংগত কারণ রয়েছে। মানুষ এখন পরিবেশ রক্ষায় আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তাই মানুষ পাটজাত পণ্যের প্রতি পুনরায় অধিকতর আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মানুষের এই আগ্রহ ও চাহিদাকে ধরে সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এ খাতকে পুনরায় চাঙ্গা করার সুদুরপ্রসারী উদ্যোগ নিলে তা ব্যর্থ হবে না। কিন্তু এ জন্য চাই দূরদর্শী কার্যকর উদ্যোগ। পাটজাত পণ্য শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত মজবুত। পরিবেশ রক্ষায় দেশে যখন পলিথিনের ব্যাগসহ কিছু উপকরণ নিষিদ্ধ করা হয়, তখন পাটজাত পণ্যের ব্যবহারের ক্ষেত্রটি বিস্তৃত করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও সংশিস্নষ্টদের অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকার এ ক্ষেত্রে জোরদার নব-উদ্যোগ নিলে তা অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে হবে অনেক বড় সহায়ক। এক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, চাহিদা অনুযায়ী পাট বা পাটজাত পণ্য রপ্তানি করা গেলে এ শিল্প থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার আয় সম্ভব।
পাটশিল্প যে কত লাভজনক খাত হতে পারে, পাশর্্ববর্তী দেশ ভারত তা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। পাটের বাজার সম্প্রসারণের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন ক্ষেত্রও সন্ধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেবল কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না, নিত্যনতুন ও আধুনিক পাটজাত পণ্য তৈরি করে সরাসরি রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে। পাট খাতের যেসব উপখাত ক্রণিক সমস্যায় ভুগছে, সেসবও দূর করার পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। অতীতে দাতা সংস্থাগুলোর কুপরামর্শ ও চাপিয়ে দেয়া নীতি গ্রহণ করায় পাট খাতে দেখা দিয়েছিল নাজুক অবস্থা। এটি স্মরণে রেখেই এগোতে হবে। সর্বাগ্রে দের্শীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করে একটি সুষ্ঠু ও যুগোপযোগী কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন করা খুব দরকার। এ কর্মপদ্ধতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পাটশ্রমিক ও পাটচাষীর হতাশা দূর করে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বিকল্প ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ।
বাংলাদেশে শিল্পর রুগ্নতা একটি পুরনো ব্যাধি। এর পেছনের কারণ বহুবিধ, যা সচেতন মহলের অজানা নয়। এর মধ্যে সংশিস্নষ্ট দায়িত্বশীল মহলের অদক্ষতা, পরিচালনাগত অদূরদর্শিতা, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ইত্যাদি বহুলাংশে দায়ী। একসময়ের সোনালি অাঁশ বলে পরিচিত বাংলাদেশের পাট গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়ায় এ কারণেই। মনে রাখা দরকার, সিনথেটিক কৃত্রিম অাঁশ থেকে পশ্চিমা বিশ্বের মোহমুক্তি ঘটতে চলেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। উন্নত জাতের পাটবীজ আগেই উদ্ভাবিত হয়েছে। পাট গবেষণায় যুগান্তকারী সাফল্যের দৃষ্টান্তও আমাদের সামনেই রয়েছে। ড. মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে একদল গবেষক আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছেন নিকট-অতীতে। পাট গবেষণায় অর্জিত ও সাফল্যকে কাজে লাগাতে হলে পুরো পাট খাত নিয়েই নতুন করে ভাবতে হবে। মহাজোট সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টি ফেলেছে, এটি খুব আশার কথা। পাটশিল্পের মাধ্যমেই আমাদের অর্থনীতির চাকা নতুন করে গতি ফিরে পাবে এ প্রত্যাশা অমূলক নয়।
২
সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার পাটের উৎপাদন বেশি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাটের চাহিদা ও দাম বাড়াই এর কারণ। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬৬ লাখ বেলের কিছু বেশি। উৎপাদন ৭০ লাখ বেল ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৫২ লাখ বেলের মতো। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দামও বেশি। গত বছর প্রতিমণ পাট প্রকারভেদে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫শ' টাকায় বিক্রি হয়। এবার শুরু হয়েছে দেড় হাজার টাকা থেকে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রতিমণ পাটের দাম এক হাজার ৯শ' টাকা থেকে বেড়ে দু'হাজার ৫শ' টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাট উৎপাদকদের জন্য এই দাম সন্তোষজনক, সন্দেহ নেই। তবে আশঙ্কার দিক এই যে, ভারতে পাট পাচার হয়ে যাচ্ছে এবং আগামীতে তা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ভারতে পাটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এখন সেখানে প্রতিমণ পাটের দাম দু'হাজার থেকে দু'হাজার ১শ' রুপি, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় তিন হাজার টাকার উপর। খবর বেরিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে পাট পাচার ক্রমাগত বাড়ছে। খবরে এও জানা গেছে, দাম বাড়ার কারণে দেশীয় পাটকল ও আমদানীকারকরা পাট কিনতে অনীহা প্রদর্শন করছে। ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে, এই আশায় অনেক কৃষক ও ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ী পাট মজুদও করছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত ১৬টি পাটকলের জন্য এবার ১২ লাখ বেল পাট কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারাদেশে পাট ক্রয়ের জন্য শতাধিক ক্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত মাত্র ৫ লাখ বেল পাট কেনা সম্ভব হয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রয় কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে যে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বাজারে তার চেয়ে বেশি দামে পাট বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দাম বাজারানুগ না হলে ক্রয় লক্ষ্য অনর্জিত থেকে যেতে পারে।

আমাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য এবং এক সময়ের প্রধান রফতানি পণ্য পাটের সুদিন ফিরে আসছে, এমন প্রত্যাশা গত কয়েক বছরের। এ প্রত্যাশা বাস্তবায়নে এবার সরকার বাস্তবোচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জনা যায়, ঋণের ভারে নূ্যজ সরকারি পাটশিল্পখাত বিজেএমসিকে ঋণমুক্ত করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তিনটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে বিজেএমসি'র ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণের দায় থেকে মুক্তি দিতে সম্প্রতি সরকারের অর্থ ও পাট মন্ত্রণালয়, ব্যাংক ও বিজেএমসি'র মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সরকার বিজেএমসিকে আরো কার্যকর করতে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিজেএমসি'র ১২শ' কোটি টাকা সুদ মওকুফ করবে তিন রাষ্ট্রীয় ব্যাংক। আর মূল ঋণ পরিশোধ করবে সরকার। পাটখাতে নবজাগরণের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এই খাত ইতিমধ্যেই তার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশিস্নষ্টরা। দেশের তৈরি পোশাক খাতের পর এতদিন হিমায়িত খাদ্য দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত হিসেবে বিবেচিত হত। সম্প্রতি পাট ও পাটজাত শিল্প, বৈদেশিক রফতানি খাতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে পাট সচিব জানিয়েছেন। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বিজেএমসিকে ঋণমুক্ত করার পাশাপাশি বন্ধ পাটকলগুলো চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখন পাট শিল্পের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার মাধ্যমে এই শিল্প পুনরুজ্জীবনের ধারাকে বেগবান করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিগত সরকারগুলোর সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি খাতের পাটকলগুলো সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে চালু করার পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই সুফল দিতে শুরু করেছে। ছোট-বড় পাটকলগুলোতে উৎপাদিত পাটপণ্য আবারো ভারত, চীন, তুরস্ক, সিরিয়া, উজবেকিস্তান ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফিতান হচ্ছে। বিশ্বে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক অাঁশ বা ফাইবার ব্যবহারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে সস্তা ও প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের চাহিদা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সাথে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটপণ্যের চাহিদাও সম্প্রসারিত হচ্ছে। পাটকলগুলো এখন বর্ধিত মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে পাট ক্রয় করছে। পাট ক্রয়ে বিজেএমসি'কে সহায়তার জন্য গত অর্থ বছরে ২০০ কোটি টাকা দিয়েছিল সরকার। পাট ক্রয়কেন্দ্র ১০৪টি থেকে বাড়িয়ে ১২০টিতে উন্নীত করা হয়েছে এবং আগামী বছর সরকারি খাতের পাটকলগুলোর জন্য পাট ক্রয় বাবদ আরো ৩০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের একটি সরকারি উদ্যোগের কথাও শোনা যাচ্ছে। পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পাটকলগুলোর তারল্য সংকট দূর করতে এই তহবিলকে কাজে লাগানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের জেনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পাটশিল্প সম্ভাবনাকে একটি নতুন দিগন্তে উন্নীত করেছেন। পাটের বংশগতির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ গুরুত্বারোপ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বাংলাদেশের ধান গবেষণার সাফল্যে যেমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে, তেমনি সরকার এবার পাট গবেষণায়ও নতুন মাত্রা যোগ করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। পাটের জেনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের সাফল্যের পর পাট গবেষণায় ৬৬ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঝিমিয়ে পড়া ও বিলুপ্তির পথে ধাবিত পাটশিল্প খাতকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী উদ্যোগসমূহের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কৃষকদের পাটচাষে উদ্বুদ্ধ করতে পাটের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, বোরোধান চাষীদের অনুরূপ পাটচাষীদের জন্য নগদ ভতর্ুকি দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত পাটশিল্প বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি। সেই সাথে সরকার সম্প্রতি প্যাকেজিং শিল্পে পাটের মোড়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। পাটের দেশীয় বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের চাহিদা তৈরি ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। আমাদের পাট ও পাটতন্তু দিয়ে অন্য কোন মহল আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের দখল নিতে চেষ্টা চালালে, আমাদের পাটশিল্প অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। পাটশিল্প থেকে আমাদের কৃষক এবং পাটশিল্পের উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ মুনাফা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারি পাটকলগুলোতে বিরাজমান দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে কাঁচাপাট পাচাররোধ করতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
Source: Daily Ittefaq, 20 & 21th December-2010